২/০৮/২০১৫

ভারত V পাকিস্তান


তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি
একদিকে ভারত, অন্যদিকে পাকিস্তান। ক্রিকেটের শাশ্বত ‘ডার্বি’। যে ম্যাচের দিকে চোখ থাকবে গোটা ক্রিকেট পৃথিবীর। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই এমনিতেই উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দেয়। বিশ্বকাপ হলে তো কথাই নেই। অ্যাডিলেডের ম্যাচটার টিকিট বিক্রি হতে তাই সময় লেগেছিল মাত্র ২০ মিনিট! ম্যাচে কী হলো না হলো, সেটি পরের ব্যাপার। ম্যাচের দু-তিন দিন আগে থেকেই যে উন্মাদনা শুরু হয়, তার কাছে অন্য যেকোনো ম্যাচ মনে হতে পারে নিতান্তই সাধারণ। মাঠে যে ২২ জন খেলেন শুধু তাদের কাছে নয়, দুই দেশের প্রায় ১৩০ কোটি ক্রিকেট-পাগল সমর্থকের কাছেও যেন এটিই মর্যাদার চূড়ান্ত লড়াই।
তুঙ্গস্পর্শী এ উত্তেজনার ম্যাচে একসময় মাঠে থাকতেন খেলোয়াড়ের ভূমিকায়। ভূমিকা বদলে এখন ধারাভাষ্যকার হয়েছেন বলে শোয়েব আখতারকে মাঠের সেই স্নায়ুচাপটা নিতে হচ্ছে না। তবে ভারতের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশ্বকাপের ওই মহারণ নিয়ে আলাপচারিতায় শোয়েব আখতার জানালেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখনো তাঁকে একই রকম রোমাঞ্চে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। বললেন, ‘এই লড়াই ১৩০ কোটি মানুষকে থমকে দেয়। উত্তেজনাটা হয় অসহনীয় এবং খেলোয়াড়েরাও তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করে দেয়।’
দুই দেশের অনেক পাগল ক্রিকেটপ্রেমী আছেন যাঁরা হয়তো বিশ্বকাপ থেকে তাঁদের প্রিয় দলের আগাম বিদায়ে তেমন কিছু মনে করেন না, যদি তাঁরা প্রতিবেশীদের হারিয়ে দিতে পারেন। শোয়েবের মতোই ধ্রুপদি এই লড়াইয়ে অনেকবার খেলার অভিজ্ঞতা আছে ভারতীয় স্পিনার হরভজন সিংয়ের। তিনিও শোনালেন এ মহারণ নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা, ‘আমরা জানতাম, পাকিস্তানের কাছে হার মানে সংবাদমাধ্যম আমাদের ঝলসে দেবে আর সমর্থকেরা আমাদের বাড়িতে পাথর ছুড়বে।’ মোহালিতে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে হারানো ভারতীয় দলেও ছিলেন হরভজন। স্মৃতিচারণা করলেন ওই ম্যাচেরও, ‘ড্রেসিংরুমের পরিবেশ সব সময় উত্তেজনায় মোড়া থাকে। সেমিফাইনালে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার অনেক আগেই হোটেল রুমে ম্যাচটি নিয়ে চিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছিল। যদি হেরে যাই—এই চিন্তায় আগের রাতে আমি ঘুমোতে পারিনি। ভাগ্যক্রমে আমরা ম্যাচটি জিতেছিলাম এবং জেতার পর আবারও আমি ঘুমাতে পারছিলাম না। কারণ এবার আমি ছিলাম আনন্দে আত্মহারা।’
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান অবশ্য বিশ্বকাপে কখনোই হারাতে পারেনি দুবারের শিরোপাজয়ী ভারতকে। তবে এ গেরোটা এবার কাটবে বলেই আশাবাদী শোয়েব, ‘স্রষ্টার কৃপায় শিগগিরই এটা হতে যাচ্ছে।’ রয়টার্স, আইএএনএস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন